বাংলাদেশে যেন তালিবানি শাসন, স্কুলে পড়ুয়াদের গান গাইতে দেবেন না ইউনূস! সঙ্গীত শিক্ষকদের পদই তুলে দিলেন
কেন এই সিদ্ধান্ত?
বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে সঙ্গীত এবং শরীর চর্চা বিষয়ে সহকারী পদ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ক্ষোভ দেখায় বেশকিছু সংগঠন। তথ্য, এই সিদ্ধান্ত ইসলামী সংগঠনগুলির টানা কয়েকমাসের বিক্ষোভের পর গৃহীত হয়েছে। ইসলামী সংগঠনগুলি পূর্ব সিদ্ধান্তকে 'ইসলামবিরোধী এজেন্ডার অংশ' বলে অভিহিত করেছে।
প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত ও নৃত্য প্রবর্তনের সরকারের প্রচেষ্টার নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস এবং হেফাজতে ইসলাম-সহ বিভিন্ন গোষ্ঠী সমাবেশ করেছে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে। সেপ্টেম্বরে একটি সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান সৈয়দ রেজাউল করিম বলেছিলেন, 'আপনারা সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ করতে চান? তাঁরা কী শেখাবেন? আপনি আমাদের সন্তানদের অসম্মানিত, উচ্ছৃঙ্খল এবং চরিত্রহীন করে তুলতে চান? আমরা কখনই তা সহ্য করব না।' ইসলামপ্রেমী মানুষদের দাবী অমান্য করলে তাঁরা পথে নেমে আসবেন, আরও ব্যাপক আন্দোলনের রূপ নিয়ে, এই হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। সরকারি স্কুলগুলিতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিও জানিয়েছিল সংগঠনগুলি।
তারপরেই সামনে এল অন্তবর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত। অথচ ইউনূস সরকার যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে থাকে, এই সিদ্ধান্ত কোথাও গিয়ে তার সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের কাছে আত্মসমর্পণ করল বলে সুর চড়িয়েছেন সে দেশের বহু মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তুমুল ক্ষোভের প্রকাশ লক্ষ করা গিয়েছে। একজন লিখেছেন, 'তাহলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চারা বার্ষিক কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না তাই তো? কোনও দেশাত্মবোধক গান হবে না। দেশপ্রেম জাগাবেন কি করে ছোটদের মধ্যে গান ছাড়া? মুক্তির গান শুনাবেন কি করে? ও আচ্ছা, মুক্তিযুদ্ধই তো না আর এই দেশে, মুক্তিযুদ্ধের গান থাকবে কিভাবে?
ভাগ্যিস আগে জন্ম নিছিলাম। লজ্জা হয়!'


0 মন্তব্যসমূহ